এক সন্ন্যাসী তাঁর সাথে একদিন হিমালয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল জ্ঞানগঞ্জ কি বা কেমন তিনি বলেছিলেন আমি তখন সবে মাত্র সন্ন্যাস দীক্ষা পেয়েছি এবং ঘুরতে ঘুরতে হিমালয়ে গিয়েছি,সেখানে বেশ কিছু দিন একটি গুহায় ছিলাম।
একদিন ওখানে একদল সাধু সন্ন্যাসী এসে অবস্থান করছেন। আমি একরকম ভয়ে ভয়ে তাঁদের সাথে পরিচয় করি। ভয়ে ভয়ে কেন ? কারণ আমি এমন সন্ন্যাসী দেখি নি কখন। যাদের দেখেছি তাদের সাথে এনাদের মিল নেই। সন্ন্যাসী দলের প্রায় সব ক'জনের দেহ দীর্ঘাকার,মনে হচ্ছে চোখ থেকে আগুন ঝরছে অথচ শান্ত,সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক লম্বা,পা অবধি জটা ও কথা খুব কম বলেন।
যাইহোক আমি তাঁদের সেবা করি এবং অনুভব করি যে প্রত্যেকেই সিদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মহাত্মা। আমার সাধন বল কিছুই নেই শুধুমাত্র সরল মনোভাব নিয়ে তাঁদের সেবা করেছি। তারাও প্রসন্নচিত্ত আমার সেবা গ্রহণ করছেন।
বহু আগের কথা যতটা মনে পড়ে,দিন সাত আটের পরে বুঝলাম তাঁদের এখান থেকে প্রস্থানের সময় হয়েছে। কিন্তু ভেবেছিলাম যে এখন থেকে আমি এনাদের সাথেই থাকবো ওনারা যেখানে যেখানে যাবেন আমি যাবো ও সেবা করবো। সব সন্ন্যাসীদের মধ্যে যিনি গুরু তাঁকে গিয়ে বললাম,আমি আপনাদের সাথে যাবো,আমায় নিয়ে চলুন।
বললেন না,তা হয় না। এবার যেখানে প্রবেশ করবো সেখানে সবাই যেতে পারে না। আমি পায়ে পড়ে গেলাম বললাম বাবা দয়া করুন। কিছু পরে শর্তসাপেক্ষে সম্মতি মিললো।
এবার আমিও আমার লোটাকম্বল বেধে নিয়ে পিছে পিছে চলা শুরু করলাম। আমার ভিতর বাহির আনন্দের ঢেউ উঠছে। মনে হচ্ছে জীবন এবার সার্থকতা পাবে। আমার শরীরে এক অন্য অচেনা শক্তি খেলছে অনুভব করলাম।
বেশকিছু পথ চলে দেখলাম পাহাড় শেষ,কিন্তু ওনারাও যাচ্ছেন সাথে আমিও যাচ্ছি। বাস্তবতা থেমে যাচ্ছে হাটছি তো কোথায় যাচ্ছি কিছুই বুঝতে পারছি না। রোমাঞ্চকর লাগছে,শিহরণ হচ্ছে। পায়ের নিচে পাহাড় নেই মাথার উপরে আকাশ নেই এ কোন জায়গা। এ অন্য জগৎ যে জগতের সাথে পৃথিবীর মানুষের পরিচয় নেই কোন মিল নেই আমাদের পৃথিবীর সাথে। এ তো অন্য এক স্থান। ভয় পাওয়ার অভ্যাসে ভয় আসছে কিন্তু ভয় পেয়েও ভয়হীন। সন্ন্যাসীদের কিছু বলতে পারছি না পাছে ওনারা বলেন ফিরে যাও,এই ভয়ও পাচ্ছি।
যাইহোক গুরু ভরসায় চলছি আর ভাবছি একদিন তো মৃত্যু হবেই যদি বাচি তবে বিশাল কিছু পাবো তাই ফিরে যাবো না,দেখা যাক যা হবার হবে।
এমন ভাবে বেশ কিছু মাইল যাওয়ার পর দেখছি অনেক সিদ্ধ পুরুষ ধ্যানে বসে আছেন কিন্তু মাটিতে তে নয় আসনেই বসা অথচ শুন্যে,যাঁদের সাথে এসেছি তাদের মধ্যে এক সন্ন্যাসী কে জিজ্ঞাসা করলাম এঁনারা কতক্ষণ এমন অবস্থায় থাকবেন? বললেন শুনেছি হাজার বছরের বেশি এই অবস্থায় এনারা বসে আছেন। জিজ্ঞাসা করলাম কি খাদ্য গ্রহণ করেন? বললেন এনাদের কোনো রূপ খাদ্যের প্রয়োজন পরে না। না প্রয়োজন পরে পানীয় কিছু গ্রহণ করার শরীর একই রকম আছে। এখানে সময় দাঁড়িয়ে যায়,কালের প্রভাব নেই এই ক্ষেত্রে।
আমাকে ওনাদের মধ্যে এক সন্ন্যাসী এসে বললেন এবার আপনি ফিরে যান আর যেতে পারবেন না। আমি কিছু বললাম না। কিন্তু ফিরবো কি উপায়ে কোনো দরজাই তো খুঁজে পাচ্ছি না। অবশেষে গুরু স্মরণ করতে করতে পিছনের দিকে ফিরতে লাগলাম। অবশেষে পায়ের নিচে পাথুরে পথ পেলাম কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে ওই যে দ্বার সে দ্বার খুঁজে পেলাম না। তারপর ওই পাহাড়ে বেশ কিছু বছর সাধনা করেছিলাম,মাঝে মাঝে চেষ্টা করেছি ভিতরে প্রবেশ করার,ওই দ্বারটি খুঁজেছি কিন্তু কোনো ভাবেই আর ওখানে প্রবেশ করা হলো গেল না।
ভেতরে প্রবেশ করলে রহস্যজনক ভাবে কম্পাসও কাজ করে না,এক চুম্বকীয় ক্ষেত্র। কিছুই ওখানে কাজ করে না। এটাও বোঝা যায় না দিন এখানে না সন্ধ্যা। অদ্ভুত সকল গন্ধ,যে গন্ধ কখনই অনুভবে আসে নি। আরো কত কিছু সে সব অভিজ্ঞতা এখন অবধি ভুলতে পারি নি।
No reviews yet
Be the first one to share your divine experience with this book.
Write a Review
Please login to write a review.